৬ষ্ঠ অাত্মীয় অাড্ডা: রক্তদানের অঙ্গিকার ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর

Sameer Chakraborty
Published: 22 Aug 2019, 09:49 PM | Updated: 22 Aug 2019, 09:50 PM   সংগঠন সংবাদ

৩ অাগষ্ট বেলা ১১ টা-তখনো অনুষ্ঠান শুরু হয়নি, পুরো মাঠ অাত্মীয়ময়। অাত্মীয়ের প্রিয় মানুষ এবং অনুষ্ঠানের প্রধান ব্যবস্থাপক মনির হোসেন ঘোষণা দিলে মুহুর্তেই মিলনায়তনের সব অাসন শেষ। শেষতক অাত্মীয়ের সকল সদস্য দুপাশে দাঁড়িয়ে জায়গা ছাড়তে হলো নতুনদের জন্য। এযেন এক মহেন্দ্রক্ষণ। পৌর কলেজের অধ্যক্ষ হরিলাল দেবনাথের সভাপতিত্বে মঞ্চ অালোকিত করলেন সিভিল সার্জন ডা. মো.শাহ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ও জেলা স্বাচিপের সভাপতি ডা. মো. আবু সাঈদ, পৌর ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ আসমা বানু, প্রেস ক্লাবের সভাপতি খ আ ম রশিদুল ইসলাম, কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, অাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠাতা সমীর চক্রবর্তী, অাখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও অাত্মীয় শাহবুদ্দিন বেগ শাপলু,আত্মীয় সমন্বয়ক শেখ দীপু এবং মারিয়া তাবাস্মুম। দরাজ কণ্ঠে সঞ্চলনায় তখন অাত্মীয়ের মনির হোসেন। সঞ্চালনা যে একটা শিল্প মঞ্চে তিনি বারংবার সেটা প্রমাণ করেন।এ আয়োজনের নেপথ্যেও ছিলেন আত্মীয়ের এ পরম আত্মীয়। অাড্ডায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাত উঁচিয়ে রক্তদানের অঙ্গীকার করা।
জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিতা ও সংগীত পরিবেশন করেন অাত্মীয়ের সহযোদ্ধা পৌর কলেজ সাংস্কৃতিক টিম। তাদের পরিবেশনা মুগ্ধ করে সকলকে।
বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে গান করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী নবনীতা রায় বর্মণ। টিম নিয়ে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়িয়েছেন মানবতার হাসি এবং প্রথম অালো বন্ধুসভা।
অাত্মীয়ের এক লাখ ডোনার তৈরির কর্মযজ্ঞকে স্বাগত জানিয়ে বক্তরা বলেন, অাত্মীয়ের ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে। প্রতিদিনই বসন্ত নামুক অাত্মীয়ের পরিবারে। নামের মতোই স্বার্থক হোক তাদের কর্ম।
এর অাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে মেধাবী সাংবাদিক ও অাত্মীয় বিশ্বজিৎ পাল বাবুর নেতৃত্বে একটি বিশাল শুভাযাত্রা প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়। যানজট এড়াতে অাত্মীয় সমন্বয়ক এমঅারঅাই রাকিব এবং ইসমাইল হোসেনের পরামর্শে সড়কের একপাশ ধরে চলে সেই পদযাত্রা। প্রেসক্লাবে সিনিয়র সাংবাদিকরা অাত্মীয়কে স্বাগত জানান। সভ্যদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি।
পর্দার অাড়ালের কথা:
মারিয়া তাবাস্মুম দলবল নিয়ে ছুটে এলো কুমিল্লা থেকে। কসবা থেকে উঠলেন অারো কয়েকজন। এদিকে অাখাউড়া জংশনও তখন অাত্মীয়ময়। উপকুল এক্সপ্রেসে গন্তব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আত্মীয় বিশ্বজিৎ পাল বাবু’র কেনা পেয়ারায় সেকি মনযোগ সবার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে নেমে অপেক্ষা ধরখারের স্বজনদের জন্য। ওদিকে বাইরোডে যুক্ত হলো অাত্মীয়ের অারেকটি দল। এক সঙ্গে হয়ে শহরের টিএ রোড হয়ে ছুটে চলা প্রেস ক্লাবের উদ্দেশ্যে। প্রেস ক্লাব সভাপতি, সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পর রক্তদানের আহবান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ। অত:পর নির্ধারিত গন্তব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কলেজ। বেলা ১১টার পরই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় হলরুম পূণ। আত্মীয় ও মানবতার হাসি সদস্যরা বাইরে বের হয়ে শিক্ষার্থীদেরকে জায়গা করে দিলো। ঠিক ১২টায় অনুষ্ঠানের শুরু। বঙ্গবন্ধুকে নিবেদন করে কবিতায় জমে উঠে আড্ডা। একে একে কথা বলেন অতিথরা। পৌর কলেজ কর্তপক্ষ এবং তাদের সাংস্কৃতিক টিমের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের কাছে অাত্মীয় পরিবারের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
আড্ডা শেষে কলেজ প্রাঙ্গনেই চলে ক্যামেরার ক্লিক। এরপর খাওয়া-দাওয়ার আলোচনা।পথে যেতে যেতেই ছাত্রলীগ সভাপতি শাপলু বললেন ওনার বাজেট ৫০০০ টাকা। ভরসা দিলেন বিশ্বজিৎ পাল বাবু ও অাত্মীয় পরিবার। রাধুনী হোটেলে খেতে খেতেও চলে আরেক আড্ডা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে নানা আলোচনা। ফিরতে হয় চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে। সব মিলিয়ে প্রায় সাত ঘন্টার ‘পেরেশানি’। কিন্তু কারো মুখেই যেন কোনো ক্লান্তি নেই। সবার একই কথা ষষ্ঠ আড্ডায় ছিলো প্রাণের ছোঁয়া। যে কারণে সব কষ্ট আর ক্লান্তি যেন নিমিষেই উবে গেছে। তবে জুযায়েদ অার কিবরীয়াদের ব্যাস্থতা ছিল রাত নযটা পর্যন্ত। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তারা ছিল ব্যাপক সক্রিয়। একের পর এক ক্লিকে ৬ষ্ট অাত্মীয় অাড্ডাকে ফ্রেমে বন্ধি করেন অাত্মীয় জুবায়েত। রেজিস্টেশনে ব্যস্ত সময় পার করেছে সাদিয়া অাক্তার কৃপা, মুন্নী, রাকিবা হাবিব, মমতা ঘোষ মনি, রিচি ঘোষরা।